করোনার থাবায় বিপর্যস্ত দেশের কিন্ডারগার্টেন স্কুল

করোনার থাবায় বিপর্যস্ত দেশের কিন্ডারগার্টেন স্কুল

করোনার কারণে বিপর্যস্ত দেশের কিন্ডারগার্টেন (কেজি) স্কুলগুলো। দিনের পর দিন বন্ধ থাকায় আয় বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বাড়িভাড়ার পাশাপশি শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা দিতে পারছে না প্রতিষ্ঠানগুলো।

এমন পরিস্থিতিতে অনেক প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। কোনো কোনো প্রতিষ্ঠান বিক্রি করার জন্য নোটিশ ঝুলিয়ে দিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

বাংলাদেশ কিন্ডারগার্টেন অ্যাসোসিয়েশনের মহাসচিব মিজানুর রহমান জানান, তাদের কাছে আসা তথ্যমতে এখন পর্যন্ত ঢাকায় অন্তত ১৫টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে গেছে। আর বেশকিছু প্রতিষ্ঠান বিক্রি করে দেয়ার নোটিশ দেয়া হয়েছে।

করোনার কারণে আয় বন্ধ হয়ে যাওয়ায় এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। এই শিক্ষক নেতার দেয়া তথ্যের সত্যতা রোববার সরেজমিন গিয়েও পাওয়া গেছে।

মোহাম্মদপুরের নবীনগর হাউজিংয়ের ৪ নম্বর রোডে অবস্থিত ফুলকুঁড়ি কিন্ডারগার্টেন অ্যান্ড হাইস্কুল। প্রতিষ্ঠানটির সামনে সাদা কাগজে কম্পোজ করা একটি নোটিশে লেখা আছে: ‘ফার্নিচারসহ স্কুল বিক্রয় হবে।’

এ ব্যাপারে জানতে যোগাযোগ করা হলে প্রতিষ্ঠানটির অধ্যক্ষ তকবির আহমেদ বলেন, মূলত অর্থনৈতিক কারণেই স্কুলটি বিক্রি করে দিচ্ছি। ৪ মাস বাড়িভাড়া ও শিক্ষক-কর্মচারীর বেতন দিতে পারছি না।

টিউশন ফি নিতে পারছি না। এমন অবস্থায় বিক্রি করা ছাড়া আর কোনো বিকল্প নেই। একই ধরনের নোটিশ ঝুলিয়ে দিয়েছে রামপুরার হলিভিশন রেসিডেন্সিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজ। সড়কে বিদ্যুতের খুঁটিতে টানিয়ে দেয়া নোটিশে প্রতিষ্ঠানের কর্তৃপক্ষ লিখেছে: ‘বিক্রয় হইবে, হাই স্কুল, প্লে-দশম শ্রেণি চলমান, ৪৫০ জন ছাত্রছাত্রীসহ’।

লেখার নিচে দেয়া হয়েছে মোবাইল নম্বর। রাজধানীর রামপুরার উলন রোডে অবস্থিত এই প্রতিষ্ঠানের ভাইস চেয়ারম্যান মো. আবদুল হামিদ রানা বলেন, ‘শিক্ষকদের বেতন দিতে না পারায় এমন উদ্যোগ নিয়েছি।’

ভাড়া চুকিয়ে এবং আসবাবপত্র ও অন্যান্য দ্রব্যাদি বিক্রির পর চিরতরে বন্ধ করে দেয়া প্রতিষ্ঠানের মধ্যে আছে- শান্তিবাগের ঢাকা ক্যাডেট স্কুল, রামপুরার ইকরা আইডিয়াল স্কুল, জুরাইন আইডিয়াল কিন্ডারগার্টেন, মাদারীপুরের আশ্রাফিয়া মেমোরিয়াল স্কুল, দোলাইর পাড়ে হলি হার্ট ইন্টারন্যাশনাল স্কুল, ঢাকার নলেজ আইডিয়াল স্কুল, কেরানীগঞ্জের ব্রিটেন স্কুল।

সারা দেশে এমন শতাধিক স্কুল আছে। জুরাইন আইডিয়াল কিন্ডারগার্টেনের মোশাররফ হোসেন বলেন, শিক্ষকদের বেতন দিতে পারছি না। সম্মান বাঁচাতে প্রতিষ্ঠানটি হস্তান্তর করার প্রক্রিয়া নেয়া হয়েছে।

কিন্ডারগার্টেন অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান বলেন, স্কুলগুলো বন্ধ হয়ে যাবে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করে আমরা গত এপ্রিলেই সংবাদ সম্মেলন করে সরকারের কাছে প্রণোদনা চেয়েছিলাম। এ ছাড়া প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রীকে স্মারকলিপি দিয়েছি। বিনা সুদে বা স্বল্পসুদে ব্যাংক ঋণ পেলে হয়তো এসব প্রতিষ্ঠান বন্ধ হতো না।

কেননা, এক একটি প্রতিষ্ঠানের বাড়িভাড়া ৬০-৮০ হাজার। এ ছাড়া শিক্ষক-কর্মচারীর বেতন আছে। কিন্তু ৪ মাসে কোনো আয় নেই। তাই বিক্রির এই উদ্যোগ। বিক্রি বা হস্তান্তর করতে না পারলে হয়তো বন্ধ করে দেবেন অনেকে। তবে প্রতিষ্ঠানগুলো রক্ষায় এখনও প্রণোদনার ব্যবস্থা করার সময় আছে।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা সচিব আকরাম-আল-হোসেন বলেন, সারা দেশে প্রায় ৬০ হাজার কেজি স্কুল আছে। এর মধ্যে দেড় হাজারের মতো নিবন্ধিত। আহ্বানের পরও বাকিগুলো নিবন্ধন করেনি। মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ মাধ্যমিক স্তরের যেসব প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীদের প্রণোদনা দিচ্ছে সেগুলো নিবন্ধিত।

তিনি বলেন, কেজি স্কুল বন্ধ বা বিক্রির জটিলতার কারণে শিক্ষার্থীরা কোনো সংকটে পড়বে না। কোনো শিক্ষার্থী যদি লেখাপড়া নিয়ে বিপাকে পড়ে, তাহলে তাদের দায়িত্ব আমরা নেব। সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলো অনেক মানসম্পন্ন।

সেসব প্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষকের সঙ্গে যোগাযোগ করলে সন্তানকে ভর্তি করতে পারবেন অভিভাবকরা। এ নিয়ে দুশ্চিন্তার প্রয়োজন নেই।

শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *