খানপুর হাসপাতালের সভাপতির পদ ছাড়ার ঘোষণা দিলেন সেলিম ওসমান

খানপুর হাসপাতালের সভাপতির পদ ছাড়ার ঘোষণা দিলেন সেলিম ওসমান

নারায়ণগঞ্জ এক্সপ্রেসঃ খানপুর হাসপাতালের স্বাস্থ্য পরিচালনা কমিটির সভাপতির পদ ছাড়ার ঘোষণা দিয়েছেন নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য একেএম সেলিম ওসমান।

তিনি বলেছেন, খানপুর ৩০০ শয্যা হাসপাতালে আগে অনেক অনিয়ম ছিল। যা বর্তমানে অনেকটাই কমে গেছে। কিন্তু কোন অবস্থাতেই আমি হাসপাতালের কর্মকর্তাদের দোষী করছিনা। কারণ তারা যদি কোন কিছুর চাহিদাপত্র দেন তাহলে সেটা নারায়ণগঞ্জে আসতে এতো সময় লাগে যা চিন্তার বাইরে। আমি দীর্ঘদিন যাবত উক্ত হাসপাতালের সভাপতির দায়িত্ব পালন করে আসছিলাম। কিন্তু আজকের পর থেকে আমি আর সভাপতির দায়িত্বে থাকবোনা। কারণ হাসপাতালে কখন কি লাগবে সেটা চেয়ে যদি পাওয়া না যায়, কখন কিভাবে টেন্ডার হচ্ছে কারা টেন্ডার দিচ্ছে সেটা যদি তত্ত্বাবধায়ক না বলতে পারেন আর সভাপতি সেই সকল বিষয়গুলো সম্পর্কে অবহিত না থাকেন তাহলে সেখানে আমার সভাপতি থাকার প্রয়োজন আছে বলে আমি মনে করিনা। হাসপাতাল নির্মাণের পর থেকেই সিদ্দিকুর রহমান এখানে চাকরি করছেন। টাইপিস্ট থেকে তত্ত্বাবধায়কের সহকারী হয়েছে। আমরা জানতে পারলাম নারায়ণগঞ্জে তার অগাদ সম্পদ। আমি যখন তার বিরুদ্ধে তদন্ত দাবী করলাম তখন তাকে রাজশাহী বদলী করে দেওয়া হলো। এটা শাস্তি নাকি উপহার আমি জানি না। এখন প্রধানমন্ত্রী নিজেই এই হাসপাতালটির বিষয়ে খোঁজ খবর রাখবেন। উনার সুদৃষ্টি এই হাসপাতালের উপর পড়েছে। উনিই ভাল বুঝবেন কিভাবে হাসপাতালটি পরিচালনা করতে হবে। আমরা নারায়ণগঞ্জের মানুষ প্রধানমন্ত্রীর মাধ্যমে সুচিকিৎসার ব্যবস্থা পাবো বলে আমি বিশ্বাস করি।

৩১ আগস্ট সোমবার বিকেল সাড়ে ৫টায় নারায়ণগঞ্জ চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রিজ এর সম্মেলন কক্ষে এক সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
এর আগে ২ জুলাই দুপুরে হাসপাতালের এক সভায় সেলিম ওসমান বলেন, ‘এ হাসপাতালের একজন টাইপইস্ট থেকে তত্ত্বাবধায়কের পিএস হয়ে গেলেন। তার জন্য কোন তত্ত্বাবধায়কই স্বাধীন ভাবে কাজ করতে পারতো না। আমি তদন্ত চেয়ে ছিলাম। কিন্তু তাকে বদলী করে দেয়া হয়েছে। নারায়ণগঞ্জের মানুষের চাহিদা হোক, কেন ওই চোরকে রাজশাহী পাঠিয়ে দেয়া হলো। কেন তার বিচার নারায়ণগঞ্জ শহরে হবে না? যার নাকি আমার জানা মতে, নারায়ণগঞ্জে ৩টি বাড়ি আছে, বিভিন্ন ক্লিনিকে শেয়ার রয়েছে। আমি যখন নিজে নিজে অডিট করেছি তখন দেখেছি ১০০ টাকার মাল ১৫০০ টাকা, রোগীদের খাবারের মধ্যে চুরি, আমি দুই বছরের গ্যারান্টি সহ ফ্যান দিয়েছি সেগুলো কোথায় গেল, একটি গভীর নলকূপ বসানোর পরও কেন আরেকটি গভীর নলকূপ বসানো হলো। কারণ ওইটার মধ্যে ঠিকাদারী আছে। চুরি যারা করেছে তাদের প্রত্যেকের নাম তদন্তের পর প্রকাশ করা হবে।
তিনি আরো বলেন, অন্যান্য হাসপাতালে গুলোতে দেখা যায় রোগীর জায়গা দিতে পারেনা। অথচ আমি গত ৫ বছরে দেখলাম না খানপুর হাসপাতালে সিট গুলোতে রোগী সম্পন্ন হয়েছে। আমার কাছে বিভিন্ন সময় অভিযোগ আসে হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়কের পিএ এর শহরের বিভিন্ন ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে রোগী পাঠান এবং কিছু কিছু ক্লিনিকে উনার নামে বেনামে মালিকানা আছে বলে খবর পাওয়া গেছে। যেকোন উপায়ে আমাদের এগুলো তদন্ত করে বের করতে হবে এবং যাতে করে তার কোন কার্যক্রম না চলে সেজন্য মন্ত্রনালয়ে আমি চিঠি দিবো। নয়তো যারা আজকে সম্মুখ যুদ্ধ করছে তারা বিপদগ্রস্থ হয়ে পড়বেন। প্রয়োজনে আমরা অন্য লোক আনবো। আর এসব কাজের সাথে যদি এলাকার কেউ জড়িত হয়ে থাকেন তাহলে তারা ওই এলাকায় থাকতে পারবেন বলে আমার মনে হয়না। আর নয়তো তাদের কাছ থেকে বিশাল অংকের ক্ষতিপূরন আদায় করা হবে।

সেলিম ওসমানের ওই বক্তব্যের পরে ৩০০ শয্যা হাসপাতালের সুপারের ব্যক্তিগত পিএ সিদ্দিকুর রহমানকে গত ২৪ জুন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের এক আদেশে বদলী করে রাজশাহী জেলা প্রশাসকের অধীনে ন্যস্ত করা হয়। সেখানে সময় সুযোগ বুঝে দায়িত্ব দেওয়া হবে।

শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *