নমুনা সংগ্রহ করছে ল্যাবএইড, অনুমোদনের কথা জানেনা জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ

নমুনা সংগ্রহ করছে ল্যাবএইড, অনুমোদনের কথা জানেনা জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ

নারায়ণগঞ্জ এক্সপ্রেসঃ গত ১ জুলাই থেকে নারায়ণগঞ্জে করোনাভাইরাসের উপসর্গ থাকা ব্যক্তিদের বাড়ি গিয়ে নমুনা সংগ্রহ করছে ল্যাব এইড ডায়াগনস্টিক সেন্টার। নমুনা প্রতি ৪০০০ হাজার টাকা নিচ্ছে তারা। স্বাস্থ্য অধিদফতরের অনুমোদন নিয়েই এ কার্যক্রম চালাচ্ছেন বলে দাবি ল্যাব এইড কর্তৃপক্ষের। তবে অনুমোদনের বিষয়ে জানে না খোদ জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ। সিভিল সার্জন কার্যালয় বলছে, বেসরকারি কোন ল্যাব অথবা ডায়াগনস্টিক সেন্টারকে বাসা থেকে নমুনা সংগ্রহের কোন অনুমোদন বা অনুমতি প্রদান করা হয়নি।

শনিবার (১১ জুলাই) রাতে নারায়ণগঞ্জ জেলা সিভিল সার্জনের ফেসবুক পেইজে একটি পোস্টে বলা হয়েছে, নারায়ণগঞ্জে কোন বেসরকারি ল্যাব অথবা ডায়াগনস্টিক সেন্টারকে বাসা থেকে নমুনা নেয়ার অনুমোদন বা অনুমতি প্রদান করা হয়নি। এই সকল প্রতিষ্ঠানের অননুমোদিত কার্যক্রমের বিরুদ্ধে শীঘ্রই ব্যবস্থা নিবে স্বাস্থ্য বিভাগ। এদের যে কোন প্রতারণা হতে সাবধান থাকতে সকল নাগরিককে সতর্ক থাকতে বলেছে সিভিল সার্জন কার্যালয়।

এ প্রসঙ্গে যোগাযোগ করা হলে জেলা সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ ইমতিয়াজ বলেন, জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ ছাড়া কাউকে বাড়ি থেকে নমুনা সংগ্রহ করার অনুমতি বা অনুমোদন দেওয়া হয়নি। আমরা জেনেছি, ল্যাব এইড ডায়াগনস্টিক সেন্টার এই কাজটি করছে। আমরা তাদের ডেকেছি। কার অনুমতি কিংবা কীসের ভিত্তিতে তারা নমুনা সংগ্রহ করছে তা জানতে আগামীকাল রোববার তাদের ডাকা হয়েছে। তাদের কাগজপত্র দেখে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, তাদের অনুমতি আমার দেইনি। তারা কার থেকে অনুমোদন নিয়েছেন সে বিষয়েও জানা নেই।

যোগাযোগ করা হলে শহরের চাষাঢ়ায় অবস্থিত ল্যাব এইড ডায়াগনস্টিক সেন্টারের ব্যবস্থাপক মোহাম্মদ সোহেল জানান, গত ১ জুলাই থেকে স্বাস্থ্য অধিদফতরের অনুমোদন নিয়ে বাড়ি বাড়ি গিয়ে নমুনা সংগ্রহ করছেন তারা। দৈনিক ১৫-২০ জনের নমুনা সংগ্রহ করা হচ্ছে। এই নমুনাগুলো পরীক্ষার জন্য ঢাকায় তাদের নিজস্ব পিসিআর ল্যাবে পাঠানো হয়। পরীক্ষার ফি ৩০০০ এবং সার্ভিস চার্জ নেওয়া হয় ১০০০ টাকা।

তিনি বলেন, আমাদের অনুমোদন আছে। সিভিল সার্জন কার্যালয় বিষয়টি কেন জানে না সেটা বলতে পারি না। আমার সাথে সিভিল সার্জন স্যারের সাথে কথা হয়েছে। আগামীকাল তার অফিসে যাবো। কাগজপত্র তাদের দেখাবো।

এ বিষয়ে জেলা করোনা ফোকাল পারসন ডা. জাহিদুল ইসলাম বলেন, আজ জানতে পারলাম ল্যাব এইড নমুনা নিচ্ছে। তারা আমাদের সাথে কোন কথা বলেনি। কোভিড রোগীর নমুনা নিচ্ছেন আর কোভিড কমিটি বিষয়টি জানবে না এটা তো হতে পারে না। তাছাড়া তারা কোথায় নমুনা পরীক্ষা করাচ্ছেন কিংবা পজেটিভ- নেগেটিভের কোন তথ্যও স্বাস্থ্য বিভাগকে জানাচ্ছে না। তারা জেকেজি কিংবা রিজেন্টের মতো ভুয়া রিপোর্ট দিচ্ছে কিনা তাও তো বলা যাচ্ছে না। ল্যাব এইড কাগজপত্র দেখাতে না পারলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, তাদের অনুমোদন থাকলে প্রথমেই আমাদের সাথে যোগাযোগ করার কথা ছিল। ফি নির্ধারণের বিষয়েও আমাদের সাথে কথা বলার ছিল। সরকারিভাবে যেখানে সর্বোচ্চ ৫০০ টাকা ফি নিচ্ছে সেখানে তারা ৪০০০-৫০০০ টাকা ফি নিবে সেটা তো হতে পারে না। তাছাড়া কেউ পজেটিভ হলে তারা কীভাবে চিকিৎসা নিচ্ছে সে বিষয়েও স্বাস্থ্য বিভাগ কিছু জানে না।

শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *