৩০ বছর পর শিরোপা, করোনাকালেও লিভারপুলের রাস্তায় উৎসব

৩০ বছর পর শিরোপা, করোনাকালেও লিভারপুলের রাস্তায় উৎসব

নারায়ণগঞ্জ এক্সপ্রেসঃ  জিতলো চেলসি, অথচ উৎসবে মাতলো লিভারপুল! যোগসূত্র তো অবশ্যই আছে। ম্যানচেস্টার সিটির বিপক্ষে চেলসির জয়েই যে ৩০ বছরের অপেক্ষা ফুরিয়েছে অলরেডদের। প্রথমবারের মতো জিতেছে প্রিমিয়ার লিগের শিরোপা। করোনাকালেও কি সেই উৎসব থেমে থাকে! হাজারও লিভারপুল ভক্ত রাস্তায় নেমে স্মরণীয় মুহূর্তটা রাঙিয়েছে আগুন জ্বালিয়ে ও আতশবাজির আলোতে।
বৃহস্পতিবার রাতে চেলসির মাঠে ২-১ গোলে হেরেছে ম্যান সিটি। এরই সঙ্গে ৭ ম্যাচ হাতে রেখে প্রথমবার প্রিমিয়ার লিগের শিরোপা ঘরে তুলেছে লিভারপুল। ইংলিশ প্রথম বিভাগ ফুটবলের সর্বোচ্চ ট্রফি তাদের দখলে থাকলেও প্রতিযোগিতাটি নাম পাল্টে প্রিমিয়ার লিগ হওয়ার পর শিরোপার ঘর ছিল ফাঁকা। ইয়ুর্গেন ক্লপের হাত ধরে ট্রফি খরা কাটালো লিভারপুল।

দুইশ মাইল দূরের স্টামফোর্ড ব্রিজে চেলসির জয় ছড়িয়ে পড়লো লিভারপুলে। প্রিয় ক্লাবের শিরোপা জয়ের উৎসবে রাস্তায় নেমে আসেন ভক্তরা। অ্যানফিল্ডের বাইরে জড়ো হয়েছিল প্রায় ২ হাজার ভক্ত। অনেকে উৎসবে মেতেছিল খেলোয়াড়দের প্রবেশদ্বারের সামনে।
করোনাভাইরাস পরিস্থিতি এখনও নিয়ন্ত্রণে আসেনি যুক্তরাজ্যে। এর মধ্যে একত্র হয়ে উৎসব! গত ৩০ বছরে যে উপলক্ষ আসেনি, সেই মুহূর্ত যখন এসেছে, তখন কিসের ভয়! মার্সেসাইড পুলিশও তাদের আনন্দ মাটি করেনি। যদিও স্থানীয় সময় রাত ১১টায় অ্যানফিল্ডে ঢোকার পথ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল।

এ ব্যাপারে সহকারী প্রধান কনস্টেবল রব কার্ডেন ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসিকে বলেছেন, ‘স্টেডিয়ামের বাইরে অনেক মানুষ জড়ো হয়েছিল।’ তবে তাদের সবাই ‘ভালো প্রকৃতির’ ছিলেন বলে জানিয়েছেন তিনি। একই সঙ্গে এই পুলিশ কর্তা লিভারপুল ভক্তদের প্রশংসায় ভাসিয়েছেন। কারণ করোনাকালে নিজেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বেশিরভাগ লিভারপুল ভক্ত রাস্তার বের হয়নি।
শুধু ভক্ত নয়, লিভারপুলের খেলোয়াড়রাও মেতেছিলেন উৎসবে। চেলসি-ম্যান সিটি ম্যাচ দেখার পর একসঙ্গে উৎসব করেছেন গোলকিপার আলিসন, ডিফেন্ডার ভার্জিল ফন ডাইক ও মিডফিল্ডার অ্যালেক্স অক্সলেড-চেম্বারলিন।

অ্যানফিল্ডের পথ ধরে আনন্দে মাতা লিভারপুল ভক্তরা আগুন জ্বালিয়ে, ক্লাবের পতাকা উড়িয়ে গলায় সুর তুলেছিলেন খেলোয়াড়দের নাম ধরে, যার মধ্যে রয়েছেন ফরোয়ার্ড মোহামেদ সালাহ ও অধিনায়ক জর্ডান হেনডার্সন। অনেক ভক্ত আবার কোচ ক্লপের ছবিযুক্ত প্ল্যাকার্ড নিয়ে এসেছিলেন।
ছয় বছরের অ্যান্থনি নেসবিটও এই উৎসবে যোগ দিয়েছিল তার বাবা অ্যান্থনি ও মা মার্লিনের সঙ্গে। তাদের হাতে ছিল ফরোয়ার্ড সাদিও মানের কার্ডবোর্ড। ছোট্ট নেসবিটও এই আনন্দের মূল্য জানে, ‘এটা অসাধারণ, বিশেষ করে তাদের জন্য। এই শিরোপার জন্য আমাদের ৩০ বছর অপেক্ষা করতে হয়েছে।’
সময়টা অনেক দীর্ঘ। আনন্দের বহিঃপ্রকাশও তাই অন্যরকম। প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসও বেঁধে রাখতে পারেনি তাদের। এ তো কেবল শুরু, শিরোপা হাতে তোলার পর আরও বড় উৎসব অপেক্ষা করছে লিভারপুলে।

শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *